২০ বছর বয়সে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সমর্থনে আন্দোলনে নেমে জেলে গিয়েছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এ সময় মুক্তিযুদ্ধের সমর্থনে মোদীর সহকর্মীরাসহ ভারতে সত্যাগ্রহ আন্দোলন করেছিল।
শুক্রবার (২৬ মার্চ) ঢাকার জাতীয় প্যারেড স্কোয়ারে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদানকালে এসব কথা বলেন তিনি।
মোদী এ সময় বলেন, ‘আমার রাজনৈতিক জীবনেও বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সমর্থনে আমি এবং সহকর্মীরা ভারতে সত্যাগ্রহ আন্দোলন করেছিলাম।’
তিনি বলেন, ‘তখন আমার বয়স সবে ২০-র কোঠায়। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সমর্থনে সত্যাগ্রহ করে জেলে যাওয়ার সুযোগও হয়েছিল আমার।’
দু’দিনের সফরে শুক্রবারই বাংলাদেশে পৌঁছেছেন মোদী। সাদা কুর্তা-পাজামার উপর কালো রঙের ‘মুজিব কোট’ পরে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠানে অংশ নেন তিনি।
মুজিব কোট গায়ে দিয়ে মোদীর এই উপস্থিতিকে বাংলাদেশের জাতির জনকের প্রতি বিশেষ শ্রদ্ধার্ঘ্যের একটি নমুনা বলে মনে করছে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। এ ছাড়া নিজের বক্তৃতাতেও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মরণে তাঁর ভাষণের একটি অংশ উদ্ধৃত করেন মোদী। বক্তৃতার ওই অংশটুকু মোদী বাংলাতেই উচ্চারণ করেন।
শুক্রবার সকালে ঢাকায় পৌঁছন মোদী। পরে বিকেলে ঢাকার জাতীয় প্যারেড স্কোয়ারে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বাংলাদেশ দিবসের উদযাপন অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
নিজের বক্তৃতায় বাংলাদেশের স্বাধীনতার যুদ্ধে শহীদ সংগ্রামীদের স্মরণ করেন নরেন্দ্র মোদী বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মাহুতির কথা ভোলার নয়। আমি সেই ভারতীয়দের কথাও ভুলতে পারব না যাঁরা সেই সময় বাংলাদেশের যোদ্ধাদের সমর্থনে তাঁদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন।’
মোদী আরও বলেন, ‘ভারত ও বাংলাদেশের উভয়েরই গণতান্ত্রিক শক্তি এবং ভবিষ্যৎ দর্শনের ক্ষমতা রয়েছে। তাই তাদের একযোগে সামনে এগোতে হবে। তা হলেই দুই দেশ সহজে কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছতে পারবে।’
