এতিম ছাত্র ও শিশুদের চট্টগ্রাম ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় চালানো নাশকতায় ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছে হেফাজতে ইসলাম। বিভিন্ন মাদ্রাসা পড়ুয়া শিশু শিক্ষার্থীদের সড়কে নামিয়ে অবরোধ করিয়েছে তারা। পাশাপাশি তাদের হাতে তুলে দিয়েছে লাঠি। গাড়ি ভাংচুর, থানা ভবন ও সরকারী সম্পদ ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগের মত নাশকতায় ব্যবহার করছে তারা এই কোমলমতি শিশুদের।
কোথাও কোথাও রাস্তায় ব্যারিকেড দিতে মাদ্রাসার শিশু শিক্ষার্থীদের চাটাইয়ের উপর সড়কেই বসিয়ে দেওয়া হয়েছে। এমনকি প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে সড়কের উপরই তাদের পড়তে দেওয়া হয়েছে পবিত্র ধর্মগ্রন্থ কোরান!
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে শিশুদের নাশকতা ও সহিংসতার কাজে ব্যবহারের বেশকিছু ছবিও।
এদিকে হেফাজতের ইসলামের হঠাৎ উচ্ছৃঙ্খল আচরণ ভাবিয়ে তুলেছে প্রশাসনকে। বিশেষ করে প্রাণহানির ঘটনায় হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীদের উচ্ছৃঙ্খল আচরণকেই দায়ী করছে সরকার।
ইতোমধ্যে সহিংস আচরণ পরিহার না করলে তাদের প্রতি কঠোর হওয়ার বার্তাও যাচ্ছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
সোমবার (২৮ ফেব্রুয়ারী) বিকেলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফ মাহমুদ অপু স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে নাশকতাকারীদের সতর্ক করা হয়েছে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত দুইদিন যাবত কতিপয় উচ্ছৃঙ্খল ব্যক্তি ও গোষ্ঠী ধর্মীয় উন্মাদনায় চট্টগ্রাম জেলার হাটহাজারী উপজেলায় ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর, সরাইল ও আশুগঞ্জ উপজেলার সরকারি সম্পত্তি ধ্বংস করছে। যার মধ্যে উপজেলা পরিষদ, থানা ভবন, সরকারি ভূমি অফিস, পুলিশ ফাঁড়ি, রেল স্টেশন, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের বাড়িঘর, প্রেসক্লাবসহ জানমালের ক্ষয়ক্ষতি করে যাচ্ছে। এ জাতীয় ক্ষয়ক্ষতিসহ সকল প্রকার উচ্ছৃঙ্খল আচরণ বন্ধ করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে আহবান জানানো যাচ্ছে। অন্যথায় জনগণের জানমাল ও সম্পদ রক্ষার্থে সরকার কঠোর অবস্থান গ্রহণ করবে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সরকার আরও উদ্বেগের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে যে, স্বার্থান্বেষী মহল এতিম ছাত্র ও শিশুদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে রাস্তায় নামিয়ে সরকারী সম্পত্তিসহ জনগণের সম্পদ ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগসহ নানাধরণের অপকর্মে নিয়োজিত করায় প্রাণহানির মত ঘটনা ঘটছে। তাছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অসত্য, গুজব ছড়িয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি করা হচ্ছে। এসব গুজব রটনাকারীসহ আইন অমান্য করে শান্তি-শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।
গত শুক্রবার (২৬ মার্চ) স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রীয় অতিথি হয়ে যোগ দিতে ঢাকা আসেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। মোদীর আগমনের বিরোধী করে বামপন্থী ও কওমী মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামে। শুক্রবার জুমার নামাজের পর ঢাকায় বায়তুল মোকাররম মসজিদ এলাকায় পুলিশ ও মোদী বিরোধীদের সংঘর্ষ হয়। চট্টগ্রামেও ওই সময় হাটহাজারী মাদ্রাসাসহ আশপাশের বিভিন্ন মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা মিছিল বের করলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে।
একপর্যায়ে হেফাজতে ইসলামের সঙ্গে সম্পৃক্ত মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা হাটহাজারী থানা ভবনে হামলা চালায়। এ সময় পুলিশের গুলিতে চার জন নিহত হয়। এ সময় হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীরা উপজেলা ভূমি অফিসে ভাংচুর চালায় এবং নথিপত্রে আগুন দেয়। আগুন দেওয়া হয় হাটহাজারী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের গাড়িতেও। হাটহাজারী মাদ্রাসার ভেতর আটকে রেখে মারধরও করা হয় পুলিশ সদস্যদের।
এদিকে পুলিশের গুলিতে হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মী নিহত হওয়ার প্রতিবাদে রোববার হরতালের ডাক দেয় হেফাজতে ইসলাম। হরতাল চলাকালে হাটহাজারী-খাগড়াছড়ি মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ ছিল। তবে চট্টগ্রাম নগরীতে এই হরতালের কোনো প্রভাব ছিল না। এছাড়া চট্টগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও সড়কগুলোগুলোতে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের হরতাল বিরোধী মিছিল সমাবেশ করতে দেখা গেছে।
