চট্টগ্রাম ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীরা আগুন দিয়েছে উপজেলা ভূমি অফিসে। অতীতে এই দলটির বিরুদ্ধে থানাসহ রাজপথে ব্যাপক সহিংসতায় জড়ানোর রেকর্ড থাকলেও কোনো সরকারী দফতরকে টার্গেট করে অগ্নিসংযোগ করার মত নাশকতার অভিযোগ মিলেনি।
কিন্তু মোদী-বিরোধী কর্মসূচিতে নেমে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় প্রবেশ করে ভাংচুর ও নথি পোড়ানোর মত নাশকতায় তারা কেন জড়ালো সে বিষয়টি ভাবাচ্ছে প্রশাসনকে।
আবার হেফাজতের মিছিল-সমাবেশের আড়ালে অন্যকোনো পক্ষ সরকারী অফিসে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটাচ্ছে কি-না তা নিয়েও দেখা দিয়েছে সংশয়।
জানা গেছে, শুক্রবার (২৬ মার্চ) পুলিশ-হেফাজত সংঘর্ষে হেফাজত কর্মী নিহত হওয়ার ঘটনায় রোববার হেফাজতে ইসলামের দেশব্যাপী সকাল-সন্ধ্যা হরতালের ডাক দেয়।
হরতালের সমর্থনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সকাল থেকেই মাঠে নামে হেফাজত কর্মীরা। দুপুর ১২টার দিকে হঠাৎ সহিংস হয়ে উঠে। তারা জেল রোড এলাকার সদর উপজেলা ভূমি অফিসে গিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। পাশাপাশি জেলা সরকারি গণগ্রন্থাগারেও আগুন দেয় তারা। তাদের আগুন সন্ত্রাস থেকে রেহাই পায়নি ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের কুমারশীল মোড়ে সুরসম্রাট দি আলাউদ্দিন খাঁ সঙ্গীতাঙ্গন।
এর আগে শুক্রবার (২৬ মার্চ) জুমার নামাজ শেষে হাটহাজারী দারুল উলুম মইনুল ইসলাম মাদরাসা এবং পার্শ্ববর্তী কয়েকটি মাদ্রাসা ও মসজিদ থেকে মিছিল বের করে হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীরা। এ সময় মিছিল থেকে হাটহাজারী থানায় ভাংচুর করা হয়।
পরে তারা হাটহাজারী উপজেলা ভূমি অফিসে অগ্নিসংযোগ করে। এ সময় ভূমি অফিসে নথি বের করে এনে তাতে আগুন দেওয়া হয়।
তাদের অগ্নিসংযোগ থেকে বাদ যায়নি সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের গাড়িতেও। পরিস্তিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ গুলি চালায়।
এ বিষয়ে হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুহুল আমিন বলেন, ‘মাদ্রাসার ছাত্ররা ভূমি অফিসে আগুন দিয়ে হাটহাজারীবাসীর অপুরণীয় ক্ষতি সাধন করেছে। যার কারণে সবাইকে ভোগান্তিতে পড়তে হবে।’
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যেকোনো আন্দোলন বা প্রতিবাদের শিষ্টাচার আছে। হেফাজতে ইসলাম নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেমে রাজনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত আচরণ প্রদর্শন করেছে৷ থানা কিংবা ভূমি অফিস জনগণের সম্পদ। এসবের ক্ষতি করা কোনো আন্দোলনের কর্মসূচি হতে পারে না।
তারা মনে করছেন, নরেন্দ্র মোদীর সফরকে ঢাল হিসেবে দেখিয়ে হেফাজতে ইসলাম সরকারকে তাদের অতীতের আচরণ স্মরণ করিয়ে দিতে চাইছে। কারণ হেফাজতে ইসলামের নেতৃত্ব নির্বাচনে এবার সরকারপন্থি কওমী নেতাদের হস্তক্ষেপ ছিল। কিন্তু হেফাজতে ইসলামের ভেতরে থাকা সরকারপন্থিরা হেফাজতে ইসলামের নেতৃত্বে আসতে পারেনি। এসব নিয়ে হেফাজতে ইসলামের শীর্ষ নেতারা সরকারের বিরুদ্ধাচারণ করছেন নানাভাবে। যার ফলে মোদী বিরোধী কর্মসূচির নামে তারা সহিংসতা প্রদর্শন করে থাকতে পারে।
